Home সিনে দুনিয়া কাল মুকুটহীন নবাবের জন্মদিন
কাল মুকুটহীন নবাবের জন্মদিন

কাল মুকুটহীন নবাবের জন্মদিন

0
0

অভি মঈনুদ্দীন – বাংলাদেশের সিনেমা’র মুকুটহীন স¤্রাট আনোয়ার হোসেন বেশ কয়েকবছর আগে এই দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে পরপারে চলে গেছেন। কিছুদিন আগে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে এফডিসিতে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে তাকে নিয়ে তেমন কোন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। এই নিয়ে অনেক শিল্পী দুঃখ প্রকাশও করেছেন। বিষয়টির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ববিতা বলেন,‘ আনু ভাই ছিলেন আমাদের সিনেমা জগতের অভিভাবক। জীবনের শেষ সময়ে তিনি অনকে কষ্ট করে গেছেন। তারমতো গুনী অভিনেতা আমাদের ই-াষ্ট্রিতে আর আসবেনা। তিনি আমাদের তিন বোনকেই খুব পছন্দ করতেন। আমরাও তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করতাম। জীবনের শেষ সময়ে আমরা তিন বোনই তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। খুউব মনে পড়ছে আজ-আনু ভাই তখন কথা বলতে পারতেন না। কিন্তু আমাদের তিন বোনের সঙ্গে তিনি টুকটাক কথা বলেছিলেন। আনু ভাই আমাদের অভিনয়ের অগ্রপথিক। তার কর্ম, তার অবদান বারবার আমাদেরকে মনে করতে হবে। নানানভাবে আনু ভাইকে আমাদের নিজেদের জন্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আজ আমরাই যদি আমাদের অগ্রপথিকদের অবদানের কথা স্বীকার না করি তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের স্বাীকার করবেনা। দোয়া করি আল্লাহ আনু ভাইকে বেহেস্ত নসীব করুন।’

 

আনোয়ার হোসেনের জন্ম জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামে । ১৯৩১ সালের ০৬ নভেম্বর তার জন্ম। ১৯৫১ সালে জামালপুর স্কুল থেকেই মেট্রিক পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে। মূলত স্কুল জীবন থেকেই তিনি অভিনয়ের সাথে জড়িত তিনি। স্কুল জীবনে প্রথম অভিনয় করেন আসকার ইবনে সাইকের পদক্ষেপ নাটকে অভিনয়। তবে কি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তা আজ আর মনে করতে পারেন না তিনি। এরপর বিভিন্ন মঞ্চে তিনি নাটকে অভিনয় করেছেন। ময়মনসিংহে আনন্দ মোহন কলেজে পড়াকালীন সময়েও তিনি অনেক মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন। রাজনীতির সাথে কখনোই জড়িত ছিলেন না তিনি। তবে ভাষা আন্দোলনের সময় আবুল মনসুর আহমেদের ছেলে মতলুব আনমের সাথে তার উঠা বসা ছিলো বলে সে সময় কিছুটা জড়িত হয়েছিলেন সেই আন্দোলনে। ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন । ঢাকায় আসার পরপরই তিনি নাসিমা খানমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে বছরই পরিচালক মহিউদ্দিন এর সহকারী মো: আনিস আনোয়ার হোসেন কে সাথে নিয়ে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আর প্রথম পরিচয়েই আনোয়ার হোসেন তার অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন বলে তিনি “ তোমার আমার ” ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। আর এটাই ছিলো আনোয়ার হোসেনের অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। যে ছবিতে অভিনয় করে সে সময় পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ৩০০ টাকা। এরপর থেকে আনোয়ার হোসেন অনবরত ছবিতে অভিনয় করেছেন। ২০০৭ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি ৫০০ এর অধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। লাঠিয়াল ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পরে অবশ্য আরো দুবার তিনি এ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তার অকৃত্রিম অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে লাভ করেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানা একুশে পদক পুরষ্কার । পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অধীনে ‘আজীবন সম্মাননা’ও। আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মঞ্চে সিরাজ উদ্দৌলা নাটকে অভিনয় করেছেন । পরবর্তীতে খান আতাউর রহমান সিরাজউদ্দৌলা ছবিটি নির্মাণ করার সময় নাম ভূমিকায় আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে অভিনয় করান। আর এই ছবিতে অভিনয় করইে তিনি বাংলা সিনেমার মুকুটহীন নবাবে পরিণত হন। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃৃত্যুবরণ করেন।