Home অন্য ভূবন যার সহযোগিতায় শিল্পীরা ফিরে পান নতুন জীবন…
যার সহযোগিতায় শিল্পীরা ফিরে পান নতুন জীবন…

যার সহযোগিতায় শিল্পীরা ফিরে পান নতুন জীবন…

0
0

অভি মঈনুদ্দীন– বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন প্রধানমন্ত্রীই শিল্পীদের পাশে সহায়তার মানসিকতা নিয়ে পাশে দাঁড়াননি যতোটা না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্পীদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর্থিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে তিনি দুঃস্থ, অসহায় কিংবা রোগাক্রান্ত শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা ইতিপূর্বে বাংলাদেশের কোন প্রধানমন্ত্রীই সেই বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেননি। প্রয়াত কিংবদন্তী অভিনেতা আনোয়ার হোসেন, খলিল, ফরিদ আলী, নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন, অভিনেত্রী দিতিকে চিকিৎসার জন্য অনুদান দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আবার আনোয়ারা, খালেদা আক্তার কল্পনা, প্রবীরমিত্র, রেহানা জলি, ড্যানিরাজ, আফজাল শরীফ,  সুজেয় শ্যাম, নূতন, কুদ্দুস বয়াতী’সহ আরো অনেক শিল্পীই প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় নিজেদের জীবনে নতুন করে পথচলার শক্তি পেয়েছেন। কেউবা পেয়েছেন ত্রিশ লাখ, কেউবা বিশ লাখ আবার কেউ বা পেয়েছেন দশ লাখ টাকা। যখন যে শিল্পী  প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়ে গণমাধ্যমের মধ্যে আবেদন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন ঠিক তার কয়েকদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে ডেকে অর্থ দিয়ে সেই শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

আনোয়ার হোসেন

যে কারণে বাংলাদেশের শিল্পী সমাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শিল্প বান্ধব মন্ত্রী হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। আবার অনেকই শিল্পীদের প্রাণের মানুষ হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। তবে যে যাই বলুক না কেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে শিল্পীদের সুখে দুঃখে পাশে থাকেন তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি অসংখ্যবার। কিংবদন্তী অভিনেত্রী আনোয়ারা বলেন,‘ আমার স্বামীর অসুস্থতার সময় গণমাধ্যমের মধ্যদিয়ে আমি সাহায্য চেয়েছিলাম। তিনি এই খবর শোনার পরপরই আমাকে ত্রিশ লাখ টাকা অনুদান দেন। এটা যে আমার জন্য কতো বড় শক্তি ছিলো সে সময় তা ভাষায় প্রকাশের নয়। দোয়া করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যেন আল্লাহ ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন। তিনি আমাদের শিল্পীদের দুঃসময়ে যেভাবে পাশে দাঁড়ান তাতে মনে হয় তিনি আমাদের অতি আপনজন। যার কাছে সব দুঃখ কষ্ট আমরা শেয়ার করতে পারি। ’ গত সপ্তাহেই ২৫ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছেন কিংবদন্তী অভিনেতা প্রবীরমিত্র। তিনি বলেন,‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। কারণ নানান ঝামেলার মধ্যেও তিনি যে সেদিন আমাদের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলেছেন, আমাদের কথা মাথায় রেখে আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এটা সত্যিই অনেক বড় বিষয়। তিনি আমাদের প্রাণের মানুষ। তার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করি তিনি যেন সবসময় সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন।’ রেহানা জলি বলেন,‘ অর্থাভাবে বলা যায় আমার চিকিৎসা বন্ধই হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু সেই মুহুর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার পাশে যেভাবে দাঁড়ালেন তাতে বলতেই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপকারটা তিনিই করেছেন।

খলিল

তিনি সত্যিই মানবতার অনন্য উদাহরণ, অনন্য দৃষ্টান্ত। তার কাছে ঋণী হয়ে রইলাম। তাকে যেন আল্লাহ ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন।’ অভিনেতা খলিলের ছেলে মুসা খান । কয়েকমাস আগে অভিনেতা আফজাল শরীফকে বিশ লাখ অনুদান দিয়েছিলেন। তা দিয়ে আফজাল শরীফের চিকিৎসা চলছে। আফজাল শরীফ বলেন, ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে একজন শিল্পীকে আপন করে নেন তাতে মনেই হয়না যে তিনি আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী। মনে হয় আমি আমাার বড় বোনের সঙ্গে কথা বলছি। তিনি আমার বিপদে যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন তাতে তার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’ প্রয়াত অভিনেতা খলিলের ছেলে মুসা খান বলেন,‘ আব্বা যখন অসুস্থ ছিলেন তখন প্রাইমারি চিকিৎসার জন্য আব্বাকে দশ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। আব্বা সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করান। আবার যখন আব্বা অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তখন প্রায় দুই মাসের চিকিৎসার ব্যয়ভার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই বহন করেছিলেন। আব্বার দুঃসময়ে এভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার বিষয়টি আমাদের পরিবার আজীবন শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে। দোয়া করি তিনি যেন সবসময়ই সুস্থ থাকেন ভালো থাকেন।’

 সম্প্রতি ২৫ লাখ টাকা অনুদান পান প্রবীরমিত্র

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিল্পীদের পাশে আগামীতেও পাশে থাকবেন এমন আশাবাদই ব্যক্ত করছে শিল্পী সমাজ। এদিকে আগামী ১৬ নভেম্বর ‘হাসিনা এ ডটারস টেইল’ চারটি সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে। এই সিনেমার মধ্যদিয়ে উঠে আসছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অজানা সব কথা ও গল্প। এটি নির্মাণ করেছেন পিপলু খান। ৭০ মিনিট সময়ের এই সিনেমাটি নির্মাণ করতে নির্মাতার পাঁচ বছর সময় লেগেছে।