Home গানের ভূবন জন্মদিনে কলকাতায় রুনা লায়লা
জন্মদিনে কলকাতায় রুনা লায়লা

জন্মদিনে কলকাতায় রুনা লায়লা

0
0

অভি মঈনুদ্দীন– শনিবার উপমহাদেশের বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লার জন্মদিন। তবে এবারের জন্মদিনটি তিনি কলকাতায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়েই পার করবেন বলে জানান তিনি। সেই পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়না হন রুনা লায়লা। সেখানে পারিবারিক অনুষ্ঠানে দু’দিন থেকে আগামী ১৯ নভেম্বর ঢাকায় ফিরবেন তিনি। ঢাকায় একদিন অবস্থান করে আগামী ২১ নভেম্বর ল-নের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ল-নে অবস্থান শেষে আবার ৮ ডিসেম্বর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন রুনা লায়লা। জন্মদিন প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন,‘ এবারের জন্মদিনে চাইলেও আর ঢাকায় থাকতে পারিনি। একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কলকাতায় আসতে হয়েছে। তবে জন্মদিনে আমি আমার মুরুব্বীদের কাছ থেকে আশীর্বাদ কামনা করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি সুস্থ থাকি, ভালো থাকি। আরো ভালো ভালো কিছু গান যেন গাইতে পারি। যতোটা দিন বাঁচি সম্মান নিয়ে যেন বাঁচতে পারি। কারণ একজন শিল্পীর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনতো সম্মানই।’ এদিকে রুনা লায়লা গেলো গেলো ১২ নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ করদাতা’র পুরস্কার পেলেন। সেদিন তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছ থেকে ‘সেরা করদাতা’র পুরস্কার গ্রহণ করেন। রুনা লায়লা বলেন,‘ ১৯৭৪ সাল থেকে আমি নিয়মিত ট্যাক্স দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো সবাইকে নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করার জন্য। কারণ এই ট্যাক্সের টাকা দিয়েই দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হয়।’

রুনা লায়লা সর্বশেষ চট্টগ্রামে একটি স্টেজ শো’তে অংশ নেন গেলো সপ্তাহে। তবে আর আগে তিনি ‘আড়ং’র ৪০ বছর পুর্তিতেও ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরইমধ্যে রুনা লায়লা একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও নিজের অভিষেক ঘটিয়েছেন। নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’তে রুনা লায়লার সুরে আঁখি আলমগীর একটি গানে কন্ঠ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত রুনা লায়লা চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার কারণে পেয়েছেন ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৭৭ সালে আব্দুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত ‘যাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এরপর তিনি একই সম্মাননায় ভূষিত হন ‘এ্যাকসিডেন্ট’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘তুমি আসবে বলে’, ‘দেবদাস’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক’র জন্য। দেবু ভট্টাচার্য্যের সুরে প্রথম করাচী রেডিওতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রথম রুনা লায়লার কন্ঠে বাংলা গান শোনা যায়। ‘নোটন নোটন পায়রাগুলো’,‘আমি নদীর মতো কতো পথ পেরিয়ে’ গান তার কন্ঠে শোনা যায়। তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রুনা লায়লা প্রথম প্লে-ব্যাক করেন ১৯৭০ সালে নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রে সুবল দাসের সুর সঙ্গীতে। ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে বলো কী হবে’ গানটিতে কন্ঠ দেন। দেশে আসার পর ১৯৭৬-এ প্রথম প্লে-ব্যাক করেন নূরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘জীবন সাথী’ চলচ্চিত্রে। এর সুর সঙ্গীত করেছিলেন সত্য সাহা। রুনা লায়লার সঙ্গে দ্বৈত কন্ঠে গেয়েছিলেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। গুনী এই সঙ্গীতশিল্পী ১৮টি ভাষায় গান গাইতে পারেন যা সত্যিই বিরল।
ছবি- মোহসীন আহমেদ কাওছার