Home সিনে দুনিয়া কষ্ট করে ডাবিং শেষ করলেন প্রবীরমিত্র..
কষ্ট করে ডাবিং শেষ করলেন প্রবীরমিত্র..

কষ্ট করে ডাবিং শেষ করলেন প্রবীরমিত্র..

0
0

স্টাফ রিপোর্টার– চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেতা প্রবীরমিত্রের বাসা রাজধানীর সেগুনবাগিচায়। সেখানেই এখন সময় কাটছে তার। দুই পায়ের হাটুতে সমস্যা তার দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। হাটুর হাড় এখন আরো বেশি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে হাটতেও পারেন না তিনি ঠিকমতো। তাই , ঘরে বসেই সময় কাটছে তার। বিভিন্ন চ্যানেলে চোখ রাখা, মাঝে মধ্যে পত্রিকার পাতার সংবাদ পড়া আর যারা ফোন করে তার খোঁজ খবর নেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা-এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছে দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী প্রবীরমিত্রের। এই সময়ে যে মানুষটি তার পাশে থেকে সময় দেবার কথা ছিলো। যে মানুষটি তাকে সার্বক্ষণিক দেখ ভাল’র কথা ছিলো সেই মানুষটিই তাকে চেড়ে পরপারে চলে গেলেন ২০০০ সালে। সেই মানুষটি তার স্ত্রী অজন্তা মিত্র। স্ত্রীকে হারানোর শোক বয়ে বেড়ান আজও প্রবীরমিত্র। কিন্তু তারপরও আরো এক শোকের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তার ছোট ছেলে আকাশ ২০১২ সালে মারা যায়। স্ত্রী এবং সন্তান হারানোর বেদনা নীরবে সয়ে সয়ে আজ জীবনের এমন এক সময়ে এসে উপস্থিত হয়েছেন প্রবীরমিত্র যখন নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য অভিনয় করাটা খুউব জররী, তখন দুই পায়ের হাটুতে সমস্যা দেখা দিলো আরো প্রকট হয়ে। ঘরের মধ্যেই সময় কাটাতে হচ্ছে তাকে। বন্দী জীবন কারোরই ভালোলাগেনা। জেলের ভেতর বন্দী জীবন সেটা অন্য কথা। কিন্তু নিজগৃহে বন্দী জীবন, এ এক নিদারুণ কষ্টের বিষয়-বললেন প্রবীরমিত্র। এরইমধ্যে এস ডি রুবেল পরিচালিত ‘বৃদ্ধাশ্রম’ সিনেমার ডাবিং’র কাজ শেষ করেছেন তিনি। এসডি রুবেল বলেন,‘ মগবাজারে দাদার আসতে খুউব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু উপায়ও ছিলো না। দাদা কষ্ট করে এলেও ডাবিং করার সময় তিনি ছিলেন বেশ খোঁশ মেজাজে। দীর্ঘদিন পর ডাবিং করতে পেরে খুশি ছিলেন তিনি।’

 

প্রবীরমিত্র বলেন,‘ কষ্ট হয়েছে ডাবিং-এ যেতে কিন্তু ভীষণ ভালোও লেগেছে। ’ এখনো অভিনয়ে আগ্রহ আছে আপনার? ‘অভিনয়টাইতো পারি, এর বাইরেতো আর কিছু পারিনা। অভিনয়তো আজীবন করে যেতে চাই। কিন্তু আমার এই অবস্থায় কে আমাকে দিয়ে অভিনয় করাবে? তবে হ্যাঁ, যদি বসে বসে অভিনয় করানোর কোন ব্যবস্থা থাকে তবে আমি অভিনয় করতে পারবো। আবার অল্প একটু হেঁটে হেঁটে অভিনয় করার সুযোগ থাকলে অভিনয় করতে পারবো। আমারতো শুধু হাটুতেই সমস্যা, বাকীটুকুতো আমি পুরোপুরি সুস্থ।’ ১৯৮২ সালে তিনি মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর আরো বহু চলচ্চিত্রে তিনি অনবদ্য অভিনয় করেছেন। ভাগ্যে জুটেনি আর কোন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। একুশে পদকও পাননি নিবেদিত এই অভিনেতা। তবে পেয়েছেন ‘প্রযোজক সমিতি অ্যাওয়ার্ড’, ‘জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার’, ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সম্মাননা’,‘মাদার তেরেসা স্মৃতি পদক-২০১৭’,‘ জাগো বাংলা সম্মাননা’, ‘আমরা কুড়ি সম্মাননা’,‘ মহানগরী অ্যাওয়ার্ড’, ‘দর্শক ফেরাম অ্যাওয়ার্ড’, ‘ঢাকা কালচারাল রিপোর্টার্স ইউনিটি অ্যাওয়ার্ড’সহ আরো বহু সম্মাননা। তবে প্রবীরমিত্র বলেন,‘ দর্শকের ভালোবাসাই আমার কাছে সবসময়ই অমূল্য অর্জন। দর্শকের ভালোবাসাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এই ভালোবাসার মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই আমি।’ নায়ক হিসেবে প্রবীরমিত্রের প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো জহির রায়হানের শেষ সহকারী শেখ নজরুল ও ইলতুত মিস পরিচালিত ‘চাবুক’। এতে প্রবীরমিত্রের নায়িকা ছিলেন কবরী।
ছবি- মোহসীন আহমেদ কাওছার