Home সিনে দুনিয়া তিন শতাধিক সিনেমার সফল অভিনেত্রী তিনি..
তিন শতাধিক সিনেমার সফল অভিনেত্রী তিনি..

তিন শতাধিক সিনেমার সফল অভিনেত্রী তিনি..

0
0

অভি মঈনুদ্দীন– সূচরিতার অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিলো শিশুশিল্পী হিসেবে। পরবর্তীতে বহু চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বপরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। কিন্তু সেই পুরস্কার পেলেও আক্ষেপ রয়েগেছে তার। যখন অভিনয় খুব বেশি বুঝতেন না, সেই বয়সেই ‘জাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন তিনি। দর্শক তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন ‘জীবন নৌকা’ চলচ্চিত্রেও। কিন্তু দু’টি চলচ্চিত্রের একটির জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি। পেয়েছেন চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য। অনেকটা মনে কষ্ট নিয়েই সূচরিতা বলেন,‘ জাদুর বাঁশি চলচ্চিত্রে আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছি, আমাকে এমনই জানানো হয়েছিলো সেই সময়। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য একজন ম্যাডাম সেই পুরস্কার পেয়েছিলেন। আমি নাকি পুরস্কার নিয়ে খেলা করবো, মর্যাদাই বুঝবোনা পুরস্কারের, সে জন্য আমাকে পুরস্কার দেয়া হয়নি। অথচ নিজের অভিনয় দেখে আমি নিজেই মুগ্ধ হয়েছিলাম। পুরস্কার না পাবার সেই কষ্ট এখনো মনে হলে খারাপ লাগে।’ সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘কাগজের নৌকা’ চলচ্চিত্রে সূচরিতার বড় বোন বেবী রিটাও অভিনয় করেছিলেন। বড় বোনের শুটিং দেখতে গিয়েছিলেন তিনি এবং তারই বান্ধবী চম্পা। সেখানেই পরিচালক মুস্তাফিজের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে শিশু চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান সূচরিতা। তখন তার নাম ছিলো হেলেন। ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি শিশু চরিত্রে আরো অভিনয় করেন ‘নিমাই সন্নাসী’,‘ অবাঞ্চিত’, ‘রং বেরং’,‘টাকা আনা পাই’, কতো যে মিনতি’,‘রাজ মুকুট’,‘বাবলু’সহ আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে। নায়িকা হিসেবে আজিজুর রহমানের নির্দেশনায় ‘স্বীকৃতি’, দীলিপ বিশ্বাসের ‘সমাধি’ এবং অশোক ঘোষের ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে পরপর অভিনয় করেন। একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং মুক্তির পর তার দর্শকপ্রিয়তার কারণে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। গাজী মাজহারুল আনোয়ারই হেলেন থেকে তার নাম রাখেন সূচরিতা।

সেই যে শুরু হলো নায়িকা হিসেবে তার যাত্রা এরপর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় তিনশো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সূচরিতা। চলচ্চিত্রের দুটি মানুষ তার ভীষণ প্রিয়। একজন নায়ক রাজ রাজ্জাক। অন্যজন ববিতা। সূচরিতা বলেন,‘ ববিতা আপা একজন খাঁটি মানুষ। তার বাসার পাশেই লেকভিউ হাসপাতালে আমার প্রথম সন্তান আবির যখন হলো, তখন যতোদিন হাসপাতালে ছিলাম ততোদিন তিন বেলার খাবার তিনি তার বাসা থেকে আমাকে পাঠাতেন। তিনিও আসতেন আমার খোঁজখবর নিতে। আরো ভালোলাগার বিষয় হলো ববিতা আপা’র সন্তান অনিকের কাপড়ই আমার সন্তান আবির প্রথম পড়েছে। সিঙ্গাপুরের মাদার কেয়ার থেকে আনা সেই কাপড় প্রথম অনিক পড়েছে, তারপর আমার সন্তান। প্রথম মা হবার সময় ববিতা আপার সেইসব স্মৃতি কোনদিনই ভোলার নয়। সত্যিই তিনি একজন মহান নারী।’ সূচরিতার নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বজ্রমুষ্ঠি’র ‘জীবনে একজন প্রিয়জন সবারই প্রয়োজন’, ‘আঁখি মিলন’ চলচ্চিত্রের ‘আমার গরুর গাড়িতে’ এবং ‘জাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রের ‘আকাশ বীনা চাঁদ’ গান তিনটি ভীষণ প্রিয়। সূচরিতা বেশ কিছুদিন বিরতির পর আবারো চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘আমার মা আমার বেহেস্ত’ চলচ্চিত্রে তিনি নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন। এতে তার স্বামীর চরিত্রে আলীরাজ এবং সন্তানের চরিত্রে সাইমন সাদিক অভিনয় করছেন। আগামী ডিসেম্বরে এর শেষ লটের শুটিং হবে বলে জানান খোকন।
ছবি- মোহসীন আহমেদ কাওছার